প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (৩য় বর্ষ)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাভার,ঢাকা-১৩৪২
অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ বাংলাদেশে অনন্য ও আন্তর্জাতিক মানের প্রচুর পর্যটন পণ্য রয়েছে। একটি দেশের সুপ্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য আর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পর্যটন অপরিহার্য নিয়ামক। পর্যটনের মাধ্যমে সংশিষ্ট দেশের প্রতি আগত পর্যটকের ইতিবাচক ধারণা জন্মে। এতে পর্যটকের নিকট দেশটির ভাবমূর্তি যেমন বাড়ে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয় সে দেশ। ‘পর্যটন’ অর্থনীতির একটি বিশেষ খাত- বাংলাদেশে এমন ধারণার বিকাশ ঘটে পঞ্চাশ-ষাটের দশকে। তবে আমাদের দেশে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটলেও পর্যটন শিল্পের অবস্থান এখনও অনেক পিছিয়ে। আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ যখন শুধু পর্যটনকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করছে তখন বাংলাদেশের অবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প
পর্যটনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির বিকাশ ঘটিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ প্রমাণ করেছে ‘পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি’। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসাব মতে সিঙ্গাপুরের জাতীয় আয়ের ৭৫ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। তাইওয়ানের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ জাতীয় আয়ের ৬৫ শতাংশ, হংকংয়ের এর ক্ষেত্রে পরিমান ৫৫ শতাংশ, ফিলিপাইনের ক্ষেত্রে এর পরিমান ৫০ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩০ শতাংশ। মালদ্বীপের অর্থনীতির প্রায় পুরোটাই পর্যটন খাতের উপর নির্ভরশীল। মালয়েশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প
সমস্যাসমূহ
- জাতীয় পরিকল্পনায় পর্যটন শিল্পকে অগ্রাধিকার না দেয়া
- জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ না থাকা
- বিশ্বে বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি
- জটিল ভিসা প্রক্রিয়া
- পর্যটকদের নিরাপত্তার অভাব
- নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা
- মানসম্মত আবাসন সমস্যা
- অদক্ষ জনবল
- পর্যটন পণ্যের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাব
- সমনন্বিত পর্যটন আইন কাঠামোর অভাব
- উপযুক্ত বিনোদন ব্যবস্থার অভাব
- সুষ্ঠু পর্যটন নীতিমালার অভাব
- বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ না থাকা
সমাপনী মন্তব্য
সারা দেশের পরতে পরতে ছড়ানো প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, হাজার বছরের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতির সমাহার ও অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিপুল সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে জাতীয় পরিকল্পনায় পর্যটন শিল্পকে অগ্রাধিকার প্রদান, জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো, দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। এছাড়াও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এ জন্য তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ও ট্যাক্স মওকুফ করা, সর্বোপরি পর্যটন তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। আধুনিক পর্যটন চাহিদা মোতাবেক সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্পের উপস্থাপন বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি।